Showing posts with label বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার. Show all posts
Showing posts with label বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার. Show all posts

Tuesday, July 17, 2012

জেলা পরিষদ

জেলা বোর্ড প্রথম স্থাপিত হয় ১৮৮৫ সালে৷ ১৯৫৯ সালে তাকে বলা হলো জেলা কাউন্সিল৷ বাংলাদেশে এই জেলা কাউন্সিলই হয় জেলা পরিষদ৷ এই জেলা পরিষদগুলো চালিত হওয়ার জন্যে এখন যে আইনটি বলবত্‍ আছে তা হলো ২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইন৷ এই আইনের বিধান অনুযায়ী যতো শীঘ্র সম্ভব প্রত্যেক জেলায় একটি করে জেলা পরিষদ স্থাপিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলার নামে তার নামকরণ হবে৷ এই জেলা পরিষদ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে এবং এর স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকবে এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে এর স্থাবর ও অস্থাবর সকল প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার এবং হস্তাস্তর করার ক্ষমতা থাকবে৷ জেলা পরিষদ এর নামে মামলা দায়ের করতে পারবে বা এর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাবে৷ জেলা পরিষদের মেয়াদ হবে তার প্রথম সভায় মিলিত হবার তারিখ হতে পাঁচ বছর৷ তবে উক্ত মেয়াদ শেষ হবার পরেও নির্বাচিত নতুন পরিষদ প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষদ কার্য চালিয়ে যেতে পারবে৷


জেলা পরিষদের গঠন-প্রকৃতি 
বর্তমান জেলা পরিষদে থাকবেন একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনে ৫ জন মহিলা সদস্য৷ এরা নির্বাচিত হবেন পরোক্ষ ভোটে৷ জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী গঠিত হবে এক নির্বাচক মন্ডলী৷ প্রত্যেক জেলায় 
অন্তর্ভুক্ত কর্পোরেশনের চেয়ারম্যন ও কমিশনারগণ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান ও কমিশনারগণ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে হবে এই নির্বাচনমন্ডলী৷ একটি জেলায় মোটামুটিভাবে সোয়াশো সদস্যের নির্বাচকমন্ডলী হবে এবং তারা একুশ জনকে নির্বাচিত করে জেলা পরিষদ গঠন করবেন৷ আইন অনুযায়ী জেলার সংসদ সদস্যরা পরিষদের উপদেষ্টা হবেন৷ এক্ষেত্রে তাদের পরামর্শ দানের অধিকার থাকবে৷ তবে তাদের সুপারিশ কার্যকরী হবেই, এমন বিধি বিধান নেই৷ তবে প্রকৃত সত্য হলো, বাংলাদেশে আজো কোনো নির্বাচিত জেলা পরিষদ ক্ষমতা গ্রহণ করে নি৷ প্রশাসক বা মনোনীত ব্যক্তি জেলা পরিষদের দফতর অলংকার করেছেন৷

চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নির্বাচন করার যোগ্যতা 
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচনে মনোনয়ন লাভ ও নির্বাচিত হওয়ার জন্যে 
প্রার্থীর যেসব যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে তা এইরূপ: তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, পঁচিশ বছর বয়সী হতে হবে ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুতকৃত সে জেলার আপাতত: বলবত্‍ ভোটার তালিকায় তার নাম থাকতে হবে৷


চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের আপসারণ 
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ নির্দিষ্ট কারণে অপসারণযোগ্য৷ কারণগুলো হলো: পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকা, পরিষদ ও রাষ্ট্রের জন্যে ক্ষতিকর কার্যকলাপে জড়িত থাকা, 
দুর্নীতি ও অসদাচারণজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া, তার কৃত্য বা কর্তব্যকর্ম পালনে অস্বীকার করা বা অসমর্থ হওয়া, অসদাচারণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং পরিষদের অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি বা অপপ্রয়োগ করা৷


জেলা পরিষদের 
কর্মকর্তা ও কর্মচারী 
নির্ধারিত শর্তানুযায়ী সরকার প্রত্যেক পরিষদের জন্যে সরকারের উপসচিব মর্যাদার একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, একজন সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগ করতে পারেন এবং তারা এই আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন৷ পরিষদের 
কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্যে পরিষদ প্রয়োজনবোধে নির্ধারিত শর্তানুযায়ী অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ করতে পারেন৷ 

জেলা পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা ও কার্যাবলী 
পরিষদের কর্তব্যসমুহ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্যে যা যা করা দরকার তা সবই চেয়ারম্যান নিজে কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে করবেন ৷ পরিষদের নির্বাহী বা অন্য কোনো কার্য পরিষদের নামে গৃহীত হয়েছে বলে প্রকাশ করা হবে৷

জেলা পরিষদের বিধি দ্বারা নির্ধারিত কার্যাবলী সম্পাদনের জন্যে পরিষদ প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিটি বা সাব-কমিটি গঠন করতে পারবে৷ নিচের বিষযগুলো সম্পর্কে কমিটি বা সাব-কমিটি গঠন করা যাবে
: আইন শৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পা, নর্দমা ও পয়:নিস্কাশন ব্যবস্থা, যোগাযোগ ও ভৌত  অবকাঠামো উন্নয়ন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা, এনজিও কার্যক্রম ও আত্মকর্মসংস্থান, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন, যুব উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, নিরীক্ষণ, কৃষি, সেচ, সমবায়, মত্‍স ও পশুপালন, সমাজকল্যান, সমাজকেন্দ্র ও অন্যান্য৷ এই কমিটিগুলো কিভাবে গঠিত হবে, কি কি কাজ করবে তা বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত৷


জেলা পরিষদের বাজেট 
জেলা পরিষদের বাজেট প্রক্রিয়ার বিধান রয়েছে৷ এতে বলা হয়েছে যে, পরিষদ তার এখতিয়ারভূক্ত যে কোনো বিষয়ে তার সংগতি অনুযায়ী পাঁচসালা পরিকল্প
া বানাবে৷ এ ব্যাপারে তারা অধস্তন পরিষদের সুপারিশ নেবে৷ তারা পরিকলপণা প্রণয়নে তিনটি বিষয়ে নজর দেবে, যথা- (১) অর্থের যোগান কেমন করে হবে; (২) কিভাবে তা বাস্তবায়িত হবে; এবং (৩) পরিকল্পা সম্পর্কিত সমুদয় তথ্য৷ পরিকল্পা প্রণয়নে জনগণের মতামত নিতে হবে এবং সরকারের সুপরিশ বা পরামর্শ বিবেচনা করতে হবে৷


জেলা পরিষদের করারোপন 
পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, দ্বিতীয় তফসিলে উল্লেখিত সকল বা যে কোনো কর, রেইট, টোল এবং ফিস নির্ধারিত পদ্ধতিতে আরোপ করতে পারবে৷ করের উত্‍সগুলো হলো:
(১) বিজ্ঞাপন কর
;
(২) পরিষদের রাস্তা, পুল ও ফেরির উপর টোল
;
(৩) পরিষদের জনকল্যাণমূলক কাজের জন্যে রেইট
;
(৪) পরিষদ স্থাপিত ও পরিচালিত স্কুলের জন্যে ফিস
;
(৫) পরিষদের সেবা সরবরাহের জন্যে চার
;
(৬) পরিষদের জনকল্যাণমূলক কাজে উপকারের জন্যে ফিস
 এবং
(৭) সরকারের হুকুমে আরোপিত কোনো কর৷


জেলা পরিষদের কার্যাবলী 
জেলা পরিষদের দায়িত্ব ও কার্যাবলী দু'রকমের - আবশ্যিক এবং ঐচ্ছিক৷ জেলা পরিষদ আইন ২০০০ এর প্রথম তফসিলের প্রথম অংশে বাধ্যতামূলক কার্যাবলীর তালিকা দেয়া হযেছে৷ এগুলো হলো
:
 
১. জেলার সকল উন্নয়ন কার্যক্রমের পর্যালোচনা৷
২. উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা 
কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা৷
৩. সাধারণ পাঠাগারের ব্যবস্থা ও উহার রক্ষণাবেক্ষণ৷
৪. উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা বা সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত নহে এই প্রকার জনপথ, কালভার্ট ও ব্রীজ এর নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ৷
৫. রাস্তার পাশে জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে বৃক্ষরোপণ ও উহার সংরক্ষণ৷
৬. 
জনসাধারনের ব্যবহারার্থে উদ্যান, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের ব্যবস্থা ও উহার রক্ষণাবেক্ষণ৷
৭. সরকারী , উপজেলা পরিষদ বা পৌরসভার রক্ষণাবেক্ষণে নহে এমন খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপণা ও নিয়ন্ত্রণ৷
৮. সরাইখানা, ডাকবাংলা এবং বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ৷
৯. 
জেলা পরিষদের অনুরূপ কার্যাবলী সম্পাদনরত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সংগে সহযোগিতা৷
১০. উপজেলা ও পৌরসভাকে সহায়তা, সহযোগিতা এবং উত্‍সাহ প্রদান৷
১১. সরকার কর্তৃক জেলা পরিষদের উপর অর্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন৷
১২. সরকার কর্তৃক আরোপিত অন্যান্য কাজ৷

জেলা পরিষদ আইনের প্রথম তফসিলের দ্বিতীয় অংশে ৬৮টি ঐচ্ছিক দায়দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে৷
এ দায়িত্বগুলো শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজকল্যাণ, অর্থনৈতিক কল্যাণ, জনস্বাস্থ্য, গণপূর্ত সম্পর্কিত এবং আরো কিছু সাধারণ দায়িত্ব৷ নিচে এই দায়িত্বগুলো উল্লেখ করা হলো
:

(ক) শিক্ষা 
১৷ বিদ্যালয় স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ৷
২৷ ছাত্রাবাসের জন্য দালান নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ৷
৩৷ ছাত্র বৃত্তির ব্যবস্থা৷
৪৷ শিক্ষক প্রশিক্ষণ৷
৫৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থমঞ্জুরী প্রদান৷
৬৷ শিক্ষামূলক জরিপ গ্রহণ, শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উহার বাস্তবায়ন৷
৭৷ শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত সমিতিসমূহের উন্নয়ন ও সাহায্য৷
৮৷ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা উন্নয়ন৷
৯৷ স্কুলের শিশু-ছাত্রদের জন্য দুগ্ধ সরবরাহ ও খাদ্যের ব্যবস্থা৷
১০৷ বই প্রকাশনা ও ছাপাখানা রক্ষণাবেক্ষণ৷
১১৷ এতিম ও দুস্থ ছাত্রদের জন্য বিনামূল্যে অথবা কম মূল্যে পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা৷
১২৷ স্কুলের বই এবং ষ্টেশনারী মাল বিক্রয় কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ৷
১৩৷ শিক্ষার উন্নয়নে সহায়ক অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ৷

(খ) সংস্কৃতি 
১৪৷ তথ্যকেন্দ্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ৷
১৫৷ সাধারণ সংস্কৃতিমূলক কর্মকান্ড সংগঠন৷
১৬৷ জনসাধারণের জন্য ক্রীড়া ও খেলাধুলার উন্নয়ন৷
১৭৷ সরকারী 
প্রতিষ্ঠান এবং জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে রেডিও ও টেলিভিশন-এর ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ৷
১৮৷ যাদুঘর ও আর্ট-গ্যালারী স্থাপন ও প্রদর্শনীর সংগঠন৷
১৯৷ পাবলিক হল, কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং জনসভার জন্য স্থানের ব্যবস্থা৷
২০৷
 নাগরিক শিক্ষার প্রসার এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও পুর্নগঠন, স্বাস্থ্য, সমাজ উন্নয়ন, কৃষি শিক্ষা, গবাদিপশু প্রজনন সম্পর্কিত এবং জনস্বার্থ সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ের উপর তথ্য প্রচার৷
২১৷ মহানবী (সঃ)-এর জন্মদিবস, জাতীয় দিবস, জাতীয় শোক দিবস, শহীদ দিবস ও অন্যান্য জাতীয় অনুষ্ঠান উদ্যাপন৷
২২৷ বিশিষ্ট অতিথিগণের অভ্যর্থনা৷
২৩৷ 
শরীর চর্চার উন্নয়ন, খেলাধুলায় উত্‍সাহ দান এবং সমাবেশ ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করা৷
২৪৷ স্থানীয় এলাকার ঐতিহাসিক এবং আদি বৈশিষ্ট্যসমূহ সংরক্ষণ৷
২৫৷ সংস্কৃতি উন্নয়নমূলক অন্যান্য ব্যবস্থা৷

(গ) সমাজকল্যাণ 
২৬৷ 
দুস্থ ব্যক্তিদের জন্য কল্যাণ সদন, আশ্রয় সদন, এতিমখানা, বিধবা সদন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও রক্ষনাবেক্ষণ৷
২৭৷ মৃত নিঃস্ব ব্যক্তিদের দাফনের ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করা৷
২৮৷ 
ভিক্ষাবৃত্তি, জুয়া, মাদকদ্রব্য সেবন, কিশোর অপরাধ এবং অন্যান্য সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ৷
২৯৷ 
জনগণের মধ্যে সামাজিক, নাগরিক এবং দেশপ্রেমমূলক গুণাবলী উন্নয়ন এবং গোত্র বা গোষ্ঠীগত, বর্ণগত এবং সমপ্রদায়গত কুসংস্কার নিরুত্‍সাহিত করা৷
৩০৷ সমাজসেবার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের সংগঠিতকরণ৷
৩১৷ দরিদ্রদের জন্য আইনগত সহায়তা৷
৩২৷ নারী ও পশ্চাত্‍পদ শ্রেণীর পরিবারের সদস্যদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ৷
৩৩৷ সালিশী ও আপোষের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ৷
৩৪৷ সমাজকল্যাণ ও সমাজ উন্নয়নমূলক অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ৷

(ঘ) অর্থনৈতিক কল্যাণ 
৩৫৷ আদর্শ কৃষি খামার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ৷
৩৬৷ 
উন্নত কৃষি পদ্ধতি জনপ্রিয়করণ, উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতির সংরক্ষণ ও কৃষকগণকে উক্ত যন্ত্রপাতি ধারে প্রদান এবং পতিত জমি চাষের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ৷
৩৭৷ 
শস্য পরিসংখ্যান, সংরক্ষণ, ফসলের নিরাপত্তা বিধান, বপনের উদ্দেশ্যে বীজের ঋণদান, রাসায়নিক সার বিতরণ এবং উহার ব্যবহার জনপ্রিয়করণ এবং পশুখাদ্যের মওজুদ গড়িয়া তোলা৷
৩৮৷
 কৃষিঋণ প্রদান ও কৃষিশিক্ষার উন্নয়ন এবং কৃষি উন্নয়নমূলক অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ৷
৩৯৷ বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত এবং কৃষিকাজে ব্যবহার্য পানি সরবরাহ, জমানো ও নিয়ন্ত্রণ৷
৪০৷ গ্রামাঞ্চলে বনভূমি সংরক্ষণ৷
৪১৷ ভূমি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার এবং জলাভূমির পানি নিষ্কাশন৷
৪২৷ বাজার স্থাপন, নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ৷
৪৩৷ 
গ্রামঞ্চলের শিল্পসমূহের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উত্‍পাদিত সামগ্রীর বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা৷
৪৪৷ 
শিল্প-স্কুল স্থাপন, সংরক্ষণ এবং গ্রামভিত্তিক শিল্পের জন্য শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান৷
৪৫৷ গ্রাম্য বিপণী স্থাপন ও সংরক্ষণ৷
৪৬৷ সমবায় আন্দোলন জনপ্রিয়করণ এবং সমবায় শিক্ষার উন্নতিসাধন৷
৪৭৷ অর্থনৈতিক কল্যাণের জন্য অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ৷
৪৮৷ জনস্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষার উন্নয়ন৷
৪৯৷ 
ম্যালেরিয়া ও সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন৷
৫০৷ প্রাথমিক চিকিত্‍সাকেন্দ্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ৷
৫১৷ ভ্রাম্যমাণ চিকিত্‍সক দল গঠন৷
৫২৷ চিকিত্‍সা সাহায্য প্রদানের জন্য সমিতি গঠনে উত্‍সাহ দান৷
৫৩৷ 
চিকিত্‍সা-শিক্ষার উন্নয়ন এবং চিকিত্‍সা সাহায্যদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের অর্থ মঞ্জুরী প্রদান৷
৫৪৷ কম্পাউন্ডার, নার্স এবং অন্যান্য চিকিত্‍সাক
র্মীদের কাজ ও ডিসপেনসারী পরিদর্শন৷
৫৫৷ ইউনানী, আ
য়ুর্বেদীয় ও হোমিওপ্যাথিক ডিসপেনসারী প্রতিষ্ঠা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শন৷
৫৬৷ 
স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মাতৃসদন ও শিশু মংগল কেন্দ্র স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শন, ধাত্রীদের প্রশিক্ষণ দান এবং মাতা ও শিশুদের কল্যাণের জন্য অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ৷
৫৭৷ পশু-পাখীর ব্যাধি দূরীকরণ এবং পশু-পাখীদের মধ্যে ছোঁয়াচে রোগের প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ৷
৫৮৷ গবাদি পশুসম্পদ সংরক্ষণ৷
৫৯৷ চারণভুমির ব্যবস্থা ও উন্নয়ন৷
৬০৷ 
দুগ্ধ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, দুগ্ধপল্লী স্থাপন এবং স্বাস্থ্যসম্মত আস্তাবলের ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ৷
৬১৷ গবাদি খামার ও দুগ্ধ খামার স্থাপন ও সংরক্ষণ৷
৬২৷ হাঁস-মুরগীর খামার স্থাপন ও সংরক্ষণ৷
৬৩৷ জনস্বাস্থ্য, পশুপালন ও পাখী কল্যাণ উন্নয়নের জন্য অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ৷

(চ) গণপূর্ত 
৬৪৷ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন৷
৬৫৷ 
পানি নিষ্কাশন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, ভূ-উপরিস্থ সুপেয় পানির জলাশয় সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, রাস্তা পাকাকরণ ও অন্যান্য জনহিতকর অত্যাবশ্যকীয় কাজ করা৷
৬৬৷ স্থানীয় এলাকার নকশা প্রণয়ন৷
৬৭৷ 
এই আইন বা অন্য কোন আইনর অধীনে ন্যস্ত কোন দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অথচ এই আইনের অন্যত্র উল্লেখ নাই এমন জনকল্যাণমূলখ অত্যাবশ্যকীয় কাজের নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা৷
৬৮৷ স্থানীয় এলাকা ও উহার অধিবাসীদের ধ
র্মীয়, নৈতিক ও বৈষয়িক উন্নতি সাধনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ


জেলা পরিষদ বাতিলকরণ 
যদি প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সরকার এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, পরিষদ-
(ঙ) তার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ অথবা ক্রমাগতভাবে তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে;
(চ) তার প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ;
(ছ) সাধারণত: এইরকম কাজ করে যা জনস্বার্থ বিরোধী ;
(জ) অন্য কোনোভাবে তার ক্ষমতার সীমা লংঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে বা করছে

তাহলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত পরিষদকে বাতিল করতে পারে৷ তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত আদেশ প্রদানের পূর্বে পরিষদকে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করতে পারবে৷

জেলা পরিষদ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে জেলা পরিষদ আইন
, ২০০০ (২০০০ সালের ১৯ নং আইন) দেখা যেতে পারে৷ 

তাছাড়া নিচের বইগুলো থেকেও সাহায্য পেতে পারেন:
১) জেলায় জেলায় সরকার, আবুল মাল আবদুল মুহিত, ইউনিভারসিটি পেস লিঃ, ২০০২
২) 
Local People’s Institution, Biswajit Mallick, A H Development Publishing House,2004
৩) স্থানীয় সরকার এবং সাংবাদিকতা, এ আর ডি পাবলিকেশন, ডিসেম্বর ২০০৩
৪) বাংলাদেশে জেলা প্রশাসন, কাজী আজহার আলী, সূচীপত্র প্রকাশনী, ২০০৩ 

উপজেলা পরিষদ


৮২ সালে প্রথম উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়৷ থানাগুলোকে উপজেলা নামে গণ্য রে সর্বত্র নির্বাচিত পরিষদের ব্যবস্থা করা হয় ৷ ১৯৯১ সালে উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করা হয়৷ ১৯৯৮ সালে আবারও উপজেলা গঠনের জন্যে আইন প্রণয়ন করা হয় ৷ বর্তমানে উপজেলা পরিষদগুলো চালিত হওয়ার জন্যে যে আইনটি বলবত্‍ আছে তা হলো ১৯৯৮ সালের উপজেলা পরিষদ আইন৷ এই আইনের বিধান অনুযায়ী যতো শীঘ্র সম্ভব প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে উপজেলা পরিষদ স্থাপিত হবে৷ এই উপজেলা পরিষদ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে এবং এর স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকবে এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে এর স্থাবর ও অস্থাবর সকল প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার এবং হস্তাস্তর করার ক্ষমতা থাকবে৷ উপজেলা পরিষদ এর নামে মামলা দায়ের করতে পারবে বা এর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাবে৷ উপজেলা পরিষদের মেয়াদ হবে তার প্রথম সভায় মিলিত হবার তারিখ হতে পাঁচ বছর৷ তবে উক্ত মেয়াদ শেষ হবার পরেও নির্বাচিত নতুন পরিষদ প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষদ কার্য চালিয়ে যেতে পারবে৷

উপজেলা পরিষদের গঠন-প্রকৃতি 
উপজেলা পরিষদ গঠিত হবে একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং কিছু সংখ্যক সদস্য নিয়ে৷ সংশ্লিষ্ট উপজেলার এলাকাভুক্ত প্রত্যেক পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি এই পরিষদের সদস্য হবেন৷ তাছাড়া মহিলাদের জন্যে কিছু সংরক্ষিত সদস্যপদ থাকবে, যার সংখ্যা হবে উপজেলার এলাকাভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের সমান৷

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিধি অনুযায়ী ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন৷ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে মনোনয়ন লাভ ও নির্বাচিত হওয়ার জন্যে প্রার্থীর যেসব যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে তা এইরূপ: তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, পঁচিশ বছর বয়সী হতে হবে ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুতকৃত সে জেলার আপাতত: বলবত্‍ ভোটার তালিকায় তার নাম থাকতে হবে৷

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ নির্দিষ্ট কারণে অপসারণযোগ্য৷ কারণগুলো হলো: পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকা, পরিষদ ও রাষ্ট্রের জন্যে ক্ষতিকর কার্যকলাপে জড়িত থাকা, দুর্নীতি ও অসদাচারণজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া, তার কৃত্য বা কর্তব্যকর্ম পালনে অস্বীকার করা বা অসমর্থ হওয়া, অসদাচারণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং পরিষদের অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি বা অপপ্রয়োগ করা৷

উপজলা পরিষদের কর্মকর্তা 
ও কর্মচারী 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিষদের সচিব হবেন৷ পরিষদের কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্যে পরিষদ সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ করতে পারেন৷ এই সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরির শর্তাদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে৷
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিধি অনুযায়ী ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন৷ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে মনোনয়ন লাভ ও নির্বাচিত হওয়ার জন্যে প্রাথীর যেসব যোগ্যতা নিধারণ করা হয়েছে তা এইরূপ: তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, পঁচিশ বছর বয়সী হতে হবে ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুতকৃত সে জেলার আপাতত: বলবত্‍ ভোটার তালিকায় তার নাম থাকতে হবে৷
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ নির্দিষ্ট কারণে অপসারণযোগ্য৷ কারণগুলো হলো: পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকা, পরিষদ ও রাষ্ট্রের জন্যে ক্ষতিকর কার্যকলাপে জড়িত থাকা, দুনীতি ও অসদাচারণজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া, তার কৃত্য বা কর্তব্যকর্ম পালনে অস্বীকার করা বা অসমর্থ হওয়া, অসদাচারণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং পরিষদের অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি বা অপপ্রয়োগ করা৷ 
 
উপজেলা পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা ও কার্যাবলী 
পরিষদের কর্তব্যসমুহ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্যে যা যা করা দরকার তা সবই চেয়ারম্যান নিজে কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে করবেন ৷ পরিষদের নির্বাহী বা অন্য কোনো কার্য পরিষদের নামে গৃহীত হয়েছে বলে প্রকাশ করা হবে৷

উপজেলা পরিষদের বিধি দ্বারা নির্ধারিত কার্যাবলী সম্পাদনের জন্যে পরিষদ প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিটি, উহার সদস্য সংখ্যা, দায়িত্ব ও কার্যধারা নির্ধারণ করতে পারবেন৷ পরিষদ নিচের বিষয়ে একটি করিয়া স্থায়ী কমিটি গঠন করবেঃ
(ক) আইন শৃঙ্খলা;
(খ) 
স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পা;
(গ) কৃষি, সেচ ও পরিবেশ;
(ঘ) শিক্ষা কমিটি;
(ঙ) সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু উন্নয়
;
(চ) ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও যুব উন্নয়ন;
(ছ) যোগাযোগ ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন৷ 
উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ এর দ্বিতীয় তফসিল অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের কার্যাবলী নিম্নরূপ:
১) পাঁচসালা ও বিভিন্ন মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরী করা৷
২) 
পরিষদের নিকট হস্তান্তরিত বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মসূচী বাস্তবায়ন এবং উক্ত দপ্তরের কাজকর্মসমূহের তত্বাবধান সমন্বয় করা৷
৩) আন্তঃ ইউনিয়ন সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা ৷
৪) ভূ-উপরিস্থ পানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্যে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে উপজেলা পরিষদ ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন৷
৫) জনস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবার পরিকল্পণা সেবা নিশ্চিতকরণ৷
৬) 
স্যানিটেশন ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি সাধন এবং সুপেয় পানীয় জলের সরবরাহ ব্যবস্থা গ্রহণ৷
৭) (ক) 
উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রসারের জন্যে উদ্বুদ্ধকরণ এবং সাহায্য প্রদান৷ (খ) মাধ্যমিক শিক্ষা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রমের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি কার্যক্রম তদারকী ও তাদের সাহায্য প্রদান৷
৮) কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন ও বিকাশের লক্ষ্যে কার্যক্রমের গ্রহণ৷
৯) সমবায় স
মিতি ও বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের কাজে সহায়তা প্রদান এবং তাদের কাজের সমন্বয় সাধন৷
১০) ম
হিলা, শিশু, সমাজকল্যাণ এবং যুব, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান এবং বাস্তবায়ন করা৷
১১) কৃষি, গবাদি পশু, মত্‍স এবং বনজ সম্পদ উন্নয়নে কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন৷
১২) 
উপজেলায় আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ পুলিশ বিভাগের কার্যক্রম আলোচনা এবং নিয়মিতভাবেউধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ৷
১৩) 
আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র বিমোচনের জন্যে নিজ উদ্যোগে কর্মসূচী গ্রহণ, বাস্তবায়ন এবং এ সম্পর্কে সরকারী কর্মসূচী বাস্তবায়নে সরকারকে প্রয়েজনীয় সাহায্য প্রদান৷ 
১৪) ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন ও পরীক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান৷
১৫) 
নারী ও শিশু নির্যাতন ইত্যাদি অপরাধে সংগঠিত হওয়ার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টিসহ অন্যান্য প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ৷
১৬) 
সন্ত্রাস, চুরি, ডাকাতি, চোরাচালান, মাদক দ্রব্য ব্যবহার ইত্যাদি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টিসহ অন্যন্য প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ৷
১৭) 
পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সামাজিক বনায়নসহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ৷
১৮) সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রদত্ত অন্যন্য কার্যাবলী৷
 

উপজেলা পরিষদ তহবিল ও বাজেট 
উপজেলা পরিষদের একটি তহবিল থাকবে যার মধ্যে জমা হবে পরিষদের সকল প্রকার আয়৷ এই তহবিলের অর্থ বিভিন্ন নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করা হবে৷ পরিষদের প্রতি বছর একটি বাজেট থাকবে৷ এই বাজেট প্রণয়নেরও একটি প্রক্রিয়া আছে৷ অর্থ বছরের শুরুর দু মাস আগে তা বানিয়ে সর্বসাধারণের প্রকাশ করতে হবে৷ তারপর তাদের মন্তব্য এবং সুপারিশের বিবেচনা করে একমাস আগে তা অনুমোদন করতে হবে৷ এই বাজেটের অনুলিপি যাবে সরকারে এবং জেলা প্রশাসনে৷ সরকার পনেরো দিনের মধ্যে বাজেট সংশোধন করতে পারবেন ৷ পরিষদ তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সরকার তা পূরণ করবে৷ বাজেটে আয় ব্যয়, প্রাপ্তি বরাদ্দ ইত্যাদির প্রাক্কলিত বিররণ থাকবে৷ পরিষদের বাজেট অনুযায়ী এই আয় ব্যয়ের যথাযথ হিসাব বিবরণী সংরক্ষণ করা হয়৷ এই হিসাব বিবরনী নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিরীক্ষিত হয়৷


উপজেলা পরিষদের আ
য়ের উত্‍স 
পরিষদ উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ ( ১৯৯৮ সালের ২৪ নং আইন) এর চতুর্থ তফসিলে উল্লেখিত সকল বা যে কোনো কর, রেইট, টোল এবং ফিস নির্ধারিত পদ্ধতিতে আরোপ করতে পারবে৷ এভাবে আয়ের উত্‍সগুলো হলো:
(১) উপজেলার আওতাভুক্ত এলাকায় অবস্থিত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হাট বাজার, হস্তান্তরিত জলমহল ও ফেরীঘাট হইতে ইজারালদ্ধ আয়৷
(২) যে সকল উপজেলায় পৌরসভা গঠিত হয় নি, সেখানে সীমানা নির্ধারণপূর্বক উক্ত সীমানা বা থানা সদরের মধ্যে অবস্থিত ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানার উপর ধার্যকৃত কর৷
(৩) যে সকল উপজেলায় পৌরসভা নেই সেখানে থানা সদরে অবস্থিত সিনেমা হলের উপর কর; নাটক, থিয়েটার বা যাত্রার উপর নির্ধারিত কর৷
(৪) রাস্তা আলোকিতকরণের উপর কর৷
(৫) বেসরকারিভাবে আয়োজিত মেলা, প্রদর্শনী ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের উপর ধার্যকৃত ফি৷
(৬) ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত খাত এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার আওতা বহিভূর্ত খাত ব্যতীত বিভিন্ন ব্যবসা,
বৃত্তি ও পেশার উপর পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স ও পারমিটের উপর ধার্যকৃত ফি৷
(৭) পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত সেবার উপর ধার্যকৃত ফি ইত্যাদি৷
(৮) উপজেলার এলাকাভুক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর বাবদ আদায়কৃত রেজিষ্ট্রেশন ফিসের ১% এবং আদায়কৃত ভূমি উন্নয়ন করের ২% অংশ৷
(৯) সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্দেশিত অন্য কোনো খাতের উপর আরোপিত কর, রেইট, টোল, ফিস বা অন্য কোনো উত্‍স হতে অর্জিত আয়৷ 


উপজেলা পরিষদ বাতিলকরণ 
যদি প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সরকার এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, পরিষদ-
(ক) তার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ অথবা ক্রমাগতভাবে তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে;
(খ) তার প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ;
(গ) সাধারণত: এইরকম কাজ করে যা জনস্বার্থ বিরোধী;
(ঘ) অন্য কোনোভাবে তার ক্ষমতার সীমা লংঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে বা করছে 


তাহলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত পরিষদকে বাতিল করতে পারে৷ তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত আদেশ প্রদানের পূর্বে পরিষদকে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করতে পারবে৷

উপজেলা পরিষদ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে নিচে উল্লেখিত আইনগুলো ও বিধিগুলো দেখতে পারেন
:
১. উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ ( ১৯৯৮ সালের ২৪ নং আইন)
২. উপজেলা পরিষদ (
নির্বাচন) বিধিমালা, ১৯৯৯

তাছাড়া নিচের বইগুলো থেকেও সাহায্য পেতে পারেন:
১. জেলায় জেলায় সরকার, আবুল মাল আবদুল মুহিত, ইউনিভারসিটি প
্রেস লিঃ, ২০০২
২.
 Local People’s Institution, Biswajit Mallick, A H Development Publishing House,2004
৩. স্থানীয় সরকার এবং সাংবাদিকতা, এ আর ডি পাবলিকেশন, ডিসেম্বর ২০০৩
৪. বাংলাদেশে জেলা প্রশাসন, কাজী আজহার আলী, সূচীপত্র প্রকাশনী, ২০০৩ 

ইউনিয়ন পরিষদ

৮ঌ হাজার গ্রাম অধ্যুষিত আমাদের বাংলাদেশ ৷ সাধারণত প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার লোক অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গঠিত হয় এক একটি ইউনিয়ন ৷ আর ইউনিয়নের প্রয়োজনের প্রতি দৃষ্টি রেখে স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের পাশাপাশি ছোট-খাট বিরোধ-মামলার নিষ্পত্তির জন্যই ইউনিয়ন পরিষদের সৃষ্টি ৷ ইউনিয়ন পরিষদ একজন চেয়ারম্যান ও ১২ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে  এর মধ্যে ৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত৷ পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন ৷ তবে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত সদস্যগণ বাকি সনগুলো থেকেও নির্বাচিত হতে পারবেন ৷ সাধারণ আসনে নির্বাচিত সদস্যগণ একটি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হলেও সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্যগণ তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এলাকা থেকে নির্বাচিত হবেন 


ইউনিয়ন পরিষদের গঠন প্রকৃতি।-
   (১) ইউনিয়ন পরিষদ একজন চেয়ারম্যান ও ১২ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। এর মধ্যে ৩টি আসন মহিলাদের মধ্যে সংরক্ষিত থাকবে।
            [তবে প্রকাশ থাকে যে, পার্বত্য চট্রগ্রাম, বান্দরবন এবং খাগড়াছড়ি জেলার ইউনিয়নসমূহের বিভিন্ন শ্রেণীর জনগনের পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রতিনিধিত্ব প্রদানের জন্য সরকার উহার বিবেচনা মোতাবেক তবে তিন জনের অধিক নয় এমন সংখ্যক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে পারবেন।]
   (২) উপধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ এই অধ্যাদেশ ও বিধির মতে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন।
   (৩) প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য তিনটি আসন সংরক্ষিত থাকবে যা অত:পর সংরক্ষিত আসন বলে কথিত হবে, যারা প্রত্যক্ষ এই আসন ও বিধির বিধান অনুসারে প্রাপ্ত বয়স্ক ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন।
            তবে শর্ত থাকে যে, (১) উপধারার বিধান অনুসারে নয়টি সাধারন আসনের নির্বাচনে কোন মহিলা নির্বাচিত হতে এই উপধারা বারিত করবে না।
    (৪) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উক্ত পরিষদের একজন সদস্য বলে গণ্য হবেন।
    (৫) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সম্মানী পাবেন।

ইউনিয়ন পরিষদের অফিসার ও কর্মচারী

প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে রয়েছে একজন পূর্ণকালীন ইউনিয়ন সচিব যিনি ডেপুটি কমিশনার বা ডিসি কর্তৃক মনোনীত , একজন দফাদার বা গ্রাম পুলিশ, ৯ জন চৌকিদার যারা থানা নির্বাহী অফিসার বা টিএনও কর্তৃক মনোনীত হবেন [স্থানীয় সরকার(ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ ১ঌ৮৩, ধারা ৪২]

নিম্নে ইউনিয়ন পরিষদের মোট জনবল এবং তাদের সম্মানী বা বেতনের একটি ছক দেওয়া হলো-

নির্বাচিত এবং মনোনীত জনবল
মোট সংখ্যা
মোট বেতন এবং সম্মানী
(প্রত্যেকের মাসিক ভিত্তিতে)
চেয়ারম্যান 
১০৫০.০০ টাকা
সদস্য(পুরুষ)
৪০০.০০ টাকা
সদস্য(মহিলা)
৪০০.০০ টাকা
সচিব
১৭৫০.০০ টাকা
দফাদার বা গ্রাম পুলিশ
১০০০.০০ টাকা
চৌকিদার
৭০০.০০ টাকা
মোট 
২৪
১৪৯০০.০০ টাকা
সুত্র : আহমেদ, টি (১৯৯৮): স্থানীয় সরকার সংস্কার ভাবনার দুই দশক, পৃষ্ঠা ৩৩





ইউনিয়ন পরিষদের কাজ বা দায়-দায়িত্ব / ইউনিয়ন পরিষদের সেবাসমূহ
স্থানীয় মানুষের সমস্যার  সমাধানের জন্য স্থানীয় সরকারের ভূমিকা প্রধানত; দু প্রকারের একটি হলো সেবা প্রদানকারী ভুমিকা যেমন রিলিফ বিতরণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও বিচার সালিশ করা এবং অপরটি হলো সচেতনায়নকারীর ভূমিকা। ১ঌ৮৩ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা ও কাজকে প্রধানত ৬ টি ভাগে ভাগ করা যায় ৷ যেমন:

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে সেবাসমূহ পাওয়া যেতে পারে:
পুলিশি ও প্রতিরক্ষা সেবা
রাজস্ব ও প্রশাসনিক সেবা
উন্নয়নমুলক সেবা
হস্তান্তরিত সরকারী কাজের মাধ্যমে সেবা
আদালত বা বিচার সংক্রান্ত
নাগরিক সেবা

   যে বিষয়গুলিতে ইউনিয়ন পরিষদের আইনগত সেবা প্রদানের সুযোগ রয়েছে :
তালাকের ক্ষেত্রে
  ভরণপোষণের ক্ষেত্রে
বহুবিবাহের ক্ষেত্রে
বিবাহ ও তালাক নিবন্ধিকরণ
বাল্যবিবাহ নিরোধ
যৌতুক নিরোধ
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন
আইনগত সহায়তা প্রদান








প্রথম তফসিল
ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রামীণ পুলিশের কার্যাবলী
অংশ : ইউনিয়ন পরিষদের কার্যাবলী
(৩০ ধারা দেখুন)

১ । জনপথ রাজপথের ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ ;
২ । সরকারী স্থান, উন্মুক্ত জায়গা, উদ্যান ও খেলার মাঠ-এর ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ ;
৩ ।    জনপথ, রাজপথ ও সরকারি স্থানে আলো জ্বালানো ;
৪ । সাধারণভাবে গাছ লাগানো ও সংরক্ষণ এবং বিশেষভাবে জনপথ ও রাজপথ ও সরকারি জায়গায় গাছ লাগানো এবং সংরক্ষণ ;
৫ । কবরস্থান, শ্মশান, জনসাধারণের সভার স্থান ও জনসাধারণের অন্যান্য সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ;
৬ ।   পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ও তা সংরক্ষণ ;
৭ ।  জনপথ, রাজপথ এবং সরকারি স্থান নিয়ন্ত্রণ ও অনধিকার প্রবেশ রোধ ;
৮ ।   জনপথ, রাজপথ এবং সরকারি জায়গায় উত্‍পাত ও উহার কারণ রোহিতকরণ ;
৯ । ইউনিয়নের পরিচ্ছন্নতার জন্য নদী, বন ইত্যাদির তত্ত্বাবধান, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি সাধন এবং অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ ;
১০ । গোবর ও রাস্তার আবর্জনা সংগ্রহ, অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা ;
১১ । অপরাধমূলক ও বিপজ্জনক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ;
১২ । মৃত পশুর দেহ অপসারণ ও নিয়ন্ত্রণ ;
১৩ । পশু জবাই নিয়ন্ত্রন করা;
১৪ । ইউনিয়নের দালান নির্মাণ ও পুনঃ নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ নিয়ন্ত্রণ;
১৫ ।  বিপজ্জনক দালান ও সৌধ নিয়ন্ত্রণ;
১৬ । কুয়া, পানি তোলার কল, জলাধার, পুকুর এবং পানি সরবরাহের অন্যান্য কাজের ব্যবস্থা ও সংরক্ষণ;
১৭ ।  খাবার পানির  উত্‍স দূষণ রোধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ;
১৮ ।   জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সন্দেহযুক্ত কুপ, পুকুর বা পানি সরবরাহের অন্যান্য স্থানের পানি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা;
১৯ । খাবার জন্য সংরক্ষিত কুপ, পুকুর বা পানি সরবরাহের অন্যান্য স্থানে বা নিকটবর্তী স্থানে গোসল, কাপড় কাচা বা পশুর গোসল নিষিদ্ধ করা বা নিয়ন্ত্রণ করা;
২০ । পুকুর বা পানি সরবরাহের অন্যান্য উত্‍স-এ  বা নিকটবর্তী স্থানে শন, পাট বা অন্যান্য গাছ ভেজানো নিষিদ্ধকরণ বা নিয়ন্ত্রণ করা;
২১ ।   আবাসিক এলাকার মধ্যে চামড়া রং করা বা পাকা করা নিষিদ্ধ করা বা নিয়ন্ত্রণ করা;
২২ । আবাসিক এলাকার মাটি খনন করে পাথর বা অন্যান্য বস্তু উত্তোলন নিষিদ্ধকরণ বা নিয়ন্ত্রণকরণ;
২৩ । আবাসিক এলাকার ইটের ভাটি, মাটির পাত্র বা অন্যান্য ভাটি নির্মাণ নিষিদ্ধকরণ বা নিয়ন্ত্রণকরণ ;
২৪ । গৃহপালিত পশু বা অন্যান্য পশু বিক্রয়ের ঐচ্ছিক তালিকাভুক্তিকরণ;
২৫ । মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা;
২৬ ।   জনসাধারণের উত্‍সবাদি পালন;
২৭ ।   অগ্নিকান্ড, বন্যা, শিলাবৃস্টিসহ ঝড়, ভূমিকম্প বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় ত্রাণতত্‍পরতার ব্যবস্থা করা;
২৮ ।  বিধবা, এতিম, গরিব ও দুঃস্থ ব্যক্তিদের সাহায্য করার ব্যবস্থা করা;
২৯ । খেলাধুলার ও ক্রীড়ার উন্নতি সাধন;
৩০ । শিল্প ও সামাজিক উন্নয়ন, সমবায় আন্দোলন ও গ্রামীণ শিল্পের প্রসার, উন্নয়ন সাধন ও উত্‍সাহ দান;
৩১ । বাড়তি খাদ্য উত্পাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ;
৩২ । পরিবেশ ব্যবস্থাপনার কাজ;
৩৩ ।   গবাদি পশুর খোয়াড় নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষনের ব্যবস্থা করা;
৩৪ । প্রাথমিক চিকিত্সা কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা;
৩৫ ।   গ্রন্থাগার ও পাঠাগারের ব্যবস্থা করা;
৩৬ । ইউনিয়ন পরিষদের মত একই কাজে নিয়োজিত অন্যান্য সংস্থার সাথে সহযোগিতা;
৩৭ । জেলা প্রশাসক বা থানা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে শিক্ষার উন্নয়নে সাহায্য করা এবং
৩৮ ।  ইউনিয়নের বাসিন্দা বা পরিদর্শনকারীর উন্নয়ন, স্বাস্থ্য , নিরাপত্তা, আরাম-আয়েস বা সুযোগ-সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ ।
 
[ প্রথম তপসীল, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩]

নারীর ক্ষমতায়ন ও ইউনিয়ন পরিষদ :
"বর্তমান সরকারের নারী ক্ষমতায়নের লক্ষে সদিচ্ছা থাকা সত্বেও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত মহিলা প্রতিনিধিরা এখনও তেমন কিছু করতে পারছেন না । এরজন্য যে সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া দরকার এখনও তা হয়নি । আসলে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি ।"
ড: শিরিন আখতার, অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ।
সংরক্ষিত আসন : বর্তমান অবস্থা
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের বৈষ্যমের চিত্র ফুটি ওঠে । ম্যানুয়ালে সুস্পষ্ট কোন কাজের উল্লেখ নেই এই দোহাই দিয়ে পুরুষ সদস্যরা নারী সদস্যদের কাজ করতে বাধা দেয় । প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদেই নারী সদস্যরা কমবেশী বৈষ্যমের শিকার হচ্ছেন । এইসব নারী সদস্যের অনেকেই জানেন না তাদের দায়িত্ব কি । কারণ এ সংক্রান্ত নির্দেশ বা সার্কুলার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হলেও এইসব সদস্যদের হাতে কখনই পৌঁছে না বলে অভিযোগ রয়েছে ।
  • বিভিন্ন সার্কুলার অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের নারী ও শিশু নির্যাতন নিরোধ সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া , সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন, ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী কমিটিগুলোর এক-তৃতীয়াংশের এবং মোট প্রকল্প কমিটির এক-তৃতীয়াংশের সভাপতির দায়িত্ব পালন, সরকার ও ইউনিয়ন পরিষদে সময় সময় নির্দেশিত অন্যান্য কার্যাবলী এবং গ্রাম সরকার আইন-২০০৩ অনুযায়ী তার নির্বাচনী এলাকাধীন সব গ্রাম সরকারের উপদেষ্টা এবং সন্ত্রাসসংক্রান্ত প্রতিবেদন ইউনিয়ন পরিষদে পেশ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । একই ধরণের অধিকার দেয়া হয়েছে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোর সংরক্ষিত পদে নির্বাচিত নারী সদস্যদের । কিন্তু এ অধিকার  প্রায় সবই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ।
  • ইউপি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সব সদস্যকে নিয়ে মাসিক সভা করার বিধান থাকলেও সেখানে নারী সদস্যরা উপেক্ষিত থাকেন । এ ধরণের পরিস্থিতিতে নারী সদস্যরা চুপ থাকতে বাধ্য হন । তা না হলে তাদের অশালীন আচরণ বা বা মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয় ।
  • সাধারণ সদস্যদের চেয়ে তাদের নির্বাচনী এলাকা অনেক বেশী হলেও যাতায়াতের জন্য কোন ভাতার ব্যবস্থা নেই ।
  • সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের সঙ্গে পুরুষ সদস্যদের বৈষম্যমূলক আচরণ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব নাজমুন আরা খানম বলেন," ইউনিয়ন পরিষদ অধ্যাদেশ বা বিভিন্ন সার্কুলারে কখনোই বৈষম্য করা হয়নি । বরং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সার্কুলারে সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের জন্য কিছু বিশেষ দায়িত্ব ও কাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে ।"
  • কিন্তু বাস্তবে বৈষম্যমূলক আচরণ, বাজেট সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের প্রতি নারীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ডঃ জারিনা রহমান খান । ১৯৯৭ এবং ২০০৩ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের উপর একটি তুলনামূলক গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংরক্ষিত আসনে নারীদের অংশগ্রহণের হার প্রথম নির্বাচনের চেয়ে ২য় নির্বাচনে ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে গেছ । এমনকি ২০০৩ সালের নির্বাচনে ৪০ শতাংশ নারী পুর্ণবার সংরক্ষিত নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাম করেনি ।"
  • শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নয়, সিটি কর্পোরেশনগুলোর সংরক্ষিত পদে নির্বাচিত ওয়ার্ড কমিশনাররাও বিভিন্ন ধরণের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন । এদিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ আসন এবং সংরক্ষিত আসনের কমিশনারদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কিত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি পরিপত্রের বৈষম্যমূলক অংশ চ্যালেঞ্জ করে ১০ কমিশনার এক রিট আবেদন করেন । এ আবেতনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৪ সালের ১৬ আগষ্ট সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত নারী কমিশনারদের কর্তৃত্, ক্ষমতা ও কর্তব্য সাধারণ আসনে নির্বাচিত কমিশনারদের সমান হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রীম কোর্টের হাইর্কোট বিভাগ ।
তথ্যসূত্র: স্থানীয় সরকারের সংরক্ষিত আসন: "বৈষম্যের শিকার নারী সদস্যরা উত্‍সাহ হারাচ্ছেন নির্বাচনে": মানসুরা হোসাইন; প্রথম আলো, তারিখ-২৫.০৩.২০০৬ ইং



গ্রাম সরকার


গ্রাম সরকার কি ?
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রথম ধাপ হলো গ্রাম সরকার৷ গ্রাম সরকার দেশের প্রত্যেক ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে প্রতিষ্ঠিত হবে৷ একজন গ্রাম সরকার প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৩ জন সদস্য (মোট ১৫জন) নিয়ে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা গঠিত হবে৷ প্রত্যেক ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গ্রাম সরকারের প্রধান ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট মহিলা সদস্য হবেন গ্রাম সরকারের উপদেষ্টা৷ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত মেম্বার পদাধিকার বলে গ্রাম সরকারের প্রধান নির্বাচিত হন৷ স্থানীয় পর্যায়ে সরকার প্রশাসনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে গ্রাম সরকারের ভূমিকা অপরিসীম৷ এই গ্রাম সরকারের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হলো গ্রামের মানুষদের আইনগত সেবা প্রদান৷ সেই লক্ষ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম আদালত৷ নিচে আমরা গ্রাম আদালত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি৷
গ্রাম আদালতের উদ্দেশ্য 
পল্লীগ্রামে অধিকার বঞ্চিত আপামর জনগণের ন্যায় বিচার 
প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে গ্রাম আদালত গঠিত হয়েছে৷ গ্রাম আদালত গ্রামের মানুষের সবচাইতে কাছের আইনগত প্রতিকার পাবার আশ্রয়স্থল৷ কম খরচে কম সময়ে গ্রাম পর্যায়ে ছোটখাটো অপরাধের বিচারকার্য নিস্পত্তির জন্যই গ্রাম আদালত৷ গ্রাম আদালত অধ্যাদেশ ১৯৭৬ অনুযায়ী গ্রাম আদালতের যাবতীয় কার্যক্রম প্ররিচালিত হয় ৷
গ্রাম আদালত গঠন 
গ্রাম আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান এবং বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষে দু'জন করে প্রতিনিধি নিয়ে অর্থাত্‍ মোট ৫ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয়৷ উভয়পক্ষের মনোনীত দু'জন বিচারকের মধ্যে একজনকে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হতে হয়৷ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন৷ যদি কোনও কারনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে অপারগ হন অথবা তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে তাহলে থানা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদের অন্য কোনও সদস্যকে (যাকে কোনও পক্ষ মনোনীত করেনি) গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান মনোনীত করেন৷ যদি কোনও পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদের কোনও সদস্যকে পক্ষপাতিত্বের কারণে মনোনীত করতে না পারেন তাহলে চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে অন্য কোনও ব্যক্তিকে গ্রাম আদালতের সদস্য করা যাবে৷

গ্রাম আদালতের এখতিয়ার 
গ্রাম আদালত অধ্যাদেশ ১৯৭৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতে ফৌজিদারী ও দেওয়ানী এ দু'প্রকার মামলার বিচার হতে পারে৷

ফৌজদারী বিষয়সমূহ 
§ বেআইন জনতার সদস্য হওয়া বা দাঙ্গা-হাঙ্গামায় লিপ্ত (বে-আইনী) জনতার সদস্য সংখ্যা ১০ বা তার কম হতে হবে (ধারা ১৪৩ ও ১৪৭ দঃ বিঃ), সাধারণ আঘাত, অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ, ক্ষতিকারক কাজ, ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা (ধারা ৩১২, ৪২৭ ও ৪৪৭ দঃ বিঃ) হাতাহাতি, বে-আইনি অবরোধ, অবৈধ শক্তি প্রয়োগ, অবৈধ ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদকাসক্তি, ইঙ্গিতের মাধ্যমে নারীর শ্লীলতাহানি ইত্যাদি (ধারা ১৬, ৩৩৪, ৩৪১, ৩৪২, ৩৫৮, ৫০৪ (১ম ভাগ), ৫০৮, ৫০৯ ও ৫১০ দঃ বিঃ); § সকল ধরনের চুরি (চুরিকৃত মূল্যের পরিমাণ ৫,০০০ টাকা বা তার কম হলে (ধারা ৪৭৯, ৩৮৫ ও ৩৮১ দঃ বিঃ); § অস্থাবর সম্পদ আত্মসাত, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, দলিলাদির ধ্বংস সাধন (ধারা ৪০৩, ৪০৬, ৪১৭ ও৪২০ দঃ বিঃ)৷

দেওয়ানী বিষয়সমূহ 
§ চুরির টাকা আদায়ের মামলা § অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার বা তার মূল্য আদাযের মামলা § দখল হারানোর এক বছরের মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি দখল উদ্ধারের মামলা § ধ্বংসকৃত অস্থায়ী জিনিসপত্রের ক্ষতিপূরন আদায় সংক্রান্ত মামলা § গবাদি পশুর অনধিকার প্রবেশের জন্য খেসারতের মামলা § কতগুলো ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারে না, যেমন -     - অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বে যদি কোনও উচ্চতর আদালত কর্তৃক দন্ডিত হয়ে থাকে     - যদি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির সম্পত্তি জড়িত থাকে     - বিদ্যমান কলহের ব্যাপারে কোনও সালিসের ব্যবস্থা করা হলে     - সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কার্যরত কোনও সরকারী কর্মচারীর পক্ষ হয়ে থাকলে৷
অনেকে গ্রাম আদালত এবং সালিসী ব্যবস্থাকে এক করে ফেলে৷ গ্রাম আদালত এবং সালিসী ব্যবস্থা দু'টি ভিন্ন জিনিস৷ গ্রাম আদালতে দেওয়ানী এবং ফৌজদারী দুই ধরনের বিচার করার ক্ষমতা রয়েছে৷ কিন্তু সালিসী ব্যবস্থায় শুধুমাত্র পারিবারিক সমস্যার (যেমন - ভরণপোষন, দেনমোহর, বহুবিবাহ ইত্যাদি) সমাধান করা হয়৷ সালিসী ব্যবস্থা যে কোন ব্যক্তি বা যে কোন সংস্থা করতে পারে৷

কোর্ট ফি : 
গ্রাম আদালত অধ্যাদেশ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট মামলার আবেদন পত্র দায়ের করতে হবে৷ ফৌজদারী মামলা হলে দু'টাকার এবং দেওয়ানী মামলা হলে চার টাকা ফি লাগবে৷ দরখাস্তের সাথে ফি প্রদানের রসিদ দাখিল করতে হবে৷


গ্রাম আদালতের স্থান নির্বাচন
যে ইউনিয়নে এলাকার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সে ইউনিয়নে গ্রাম আদালত গঠিত হয়৷ একটি ইউনিয়ন এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিন্তু বিবাদী অন্য ইউনিয়নের হলে স্ব-স্ব ইউনিয়ন হতে সদস্য মনোনয়ন দিতে পারেন৷


গ্রাম আদালতের ক্ষমতা 
গ্রাম আদালত সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা করতে পারে৷ দু'টি ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত জরিমানা করতে পারে
প্রথমতঃ গ্রাম আদালত অবমাননার দায়ে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা জরিমানা৷
দ্বিতীয়তঃ রাষ্ট্রীয় গোপনীয় নয় এমন দলিল দাখিল করতে অস্বীকার বা সমন দিতে অস্বীকার করলে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা জরিমানা করতে পারে৷

গ্রাম আদালতের কার্যপদ্ধতি
গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে ৪ টাকা ও ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে ২ টাকা ফি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট বিচার প্রার্থী আবেদন করতে পারে৷ আবেদনপত্রে নিম্নে বর্ণিত বিবরণাদি থাকতে হবে: 
§ ইউনিয়ন পরিষদের নাম § আবেদনকারীর নাম ও ঠিকানা § বিবাদীর নাম ও ঠিকানা § ইউনিয়ন পরিষদের নাম, যেখানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে § সালিশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ৷


গ্রাম আদালতের বিচার পদ্ধতি : 
§ আবেদনপত্র গৃহীত হলে তা ১ নম্বর ফরমে লিপিবদ্ধ করতে হয়৷ অভিযোগ অমূলক মনে হলে চেয়ারম্যান আবেদন নাকচ করে দিতে পারেন৷ নাকচের আদেশ অন্যায়ভাবে করা হলে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে সহকারী জজ/ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পুনঃবিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারেন৷ § আবেদন গৃহীত হলে নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে উপস্থিত হতে চেয়ারম্যান সমন দেবেন৷ সমন ব্যক্তিগতভাবে জারি করতে হবে, সমনের উল্টো পৃষ্ঠায় সমন প্রাপকের প্রাপ্তি সূচক স্বাক্ষর নিতে হবে৷ বিবাদীকে পাওয়া না গেলে সমনের এক প্রস্থ তার বাড়ির প্রকাশ্য স্থানে টানিয়ে দিতে হবে এবং তাতে সমন জারি হয়েছে বলে গণ্য হবে৷ § সমন জারি এক সপ্তাহের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাদী এবং বিবাদী উভয় পক্ষকে তাদের সদস্য মনোনীত করতে বলবেন এবং মনোনীত সদস্য নিয়ে আদালত গঠিত হবে৷ আদালত গঠিত হওয়ার ৩ দিনের মধ্যে প্রতিপক্ষকে লিখিত আপত্তি দাখিল করতে বলবেন৷ লিখিত না দিলে মৌখিকভাবে বলতে বা তা লিপিবদ্ধ করতে হবে৷ নির্দষ্ট দিনে আদালত বিচারে বসবে৷ শুনানি ৭ দিনের বেশি স্থগিত রাখা যাবে না৷ § আবেদনকারী নির্ধারিত তারিখে হাজির হতে ব্যর্থ হলে চেয়ারম্যান যদি মনে করেন আবেদনকারী অবহেলা করছে তাহলে তিনি আবেদন নাকচ করতে পারেন৷ § নাকচের ১০ দিনের মধ্যে পুনঃবহাল করে মামলার তারিখ নির্দিষ্ট করবেন৷ § অনুরূপভাবে বিবাদী অবহেলা করে অনুপস্থিত থাকলে চেয়ারম্যান মামলার শুনানি নিষ্পত্তি করবেন৷ এক্ষেত্রে ১০ দিনের মধ্যে বিবাদী আবেদন করলে মামলাটি পুনঃবহাল করে শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করবেন৷


গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্ত 
গ্রাম আদালতের রায় প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে৷ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত বা চার পঞ্চমাংশ ভোটে গৃহীত হলে তার বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে না৷ যদি দু-তৃতীয়াংশ ভোটে সিদ্ধান্ত হয়, তার বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে৷ সিদ্ধান্ত ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে যে কোনও পক্ষ ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে থানা ম্যাজিস্ট্রেট এবং দেওয়ানী মামলার মামলার ক্ষেত্রে সহকারী জজ (মুন্সেফ) এর আদালতে আপীল করতে পারবেন৷


জরিমানা আদায় 
আদালত অবমাননা ও ইচ্ছাকৃতভাবে সমন অমান্য করার জন্য জরিমানা হলে অথবা জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে অস্বীকার করলে নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হবার পর তথ্য উল্লেখ করে থানা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠালে তিনি তার নিজের কোর্টের রায় মনে করে তা আদায় করে দেবেন এবং অনাদায়ে জেল/জরিমানা হতে পারে৷ ক্ষতিপূরণের টাকা নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর
 বকেয়া টাকা হিসাবে আদায় করা হবে৷

সিটি কর্পোরেশন


বাংলাদেশের বিভাগীয় ছয়টি শহরেই স্থানীয় প্রশাসন হিসেবে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে৷ এই প্রত্যেকটি সিটি কপোরেশনই এক একটা আইনের অধীনে গঠিত হয়েছে এবং পরিচালিত হচ্ছে৷ আবার এই সিটি কর্পোরেশনগুলোর সাংগঠনিক, প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যাবলীর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্যেও অনেকগুলো বিধিমালা৷ তদুপরি মোদ্দা কথা হলো এই যে, এই সবগুলো সিটি কপোরেশনের গঠন প্রকৃতি ও দায়দায়িত্ব প্রায়ই একইরকম৷ সুতরাং এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন ভিত্তিক আলাদা আলাদা আলোচনা না করে একটি সাধারণ আলোচনাই সব গুলো সিটি কর্পোরেশনের চেহারা চরিত্র এবং কার্যক্রম বুঝার জন্যে যথেষ্ট হবে বলে আশা করা যায়৷ তারপরেও পাঠকের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে আমরা আলোচনার শেষাংশে সবগুলো সিটি কর্পোরেশন সংক্রান্ত মূল আইন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধিমালা সংযুক্ত করবো৷
 
 
সিটি কর্পোরেশনের গঠন প্রকৃতি:

স্থাপন ও গঠন 
সিটি কর্পোরেশন একটি একীভূত সংস্থা যার স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার ও হস্তান্তর করার ক্ষমতা রয়েছে এবং যার নামের পক্ষে ও বিপক্ষে মামলা করা যাবে৷ সিটি কর্পোরেশন একজন মেয়র, যতোগুলো ওয়ার্ড ওয়েছে ততো জন সাধারণ আসনের কমিশনার এবং সংরক্ষিত আসনের মহিলা কমিশনার নিয়ে গঠিত হয়৷ এরা সকলেই প্রাপ্ত বয়স্ক ভোটারদের দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত হন৷ সিটি কর্পোরেশনগুলোর কার্যকাল পাঁচ বছর, তবে এই কার্যকাল শেষ হবার পরেও পরবর্তী পাঁচ বছরের কার্যকালের কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া না পর্যন্ত চলতি বা বর্তমান কর্পোরেশন দায়িত্ব পালন করে যাবে৷ মেয়র, কমিশনার ও তাদের পরিবারের সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কে একটি ঘোষণা তারা লিখিতভাবে সরকারের নিকট পেশ করবেন৷

 
মেয়র ও কমিশনার পদে নির্বাচন করার যোগ্যতা:
সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কমিশনার পদে নির্বাচনে মনোনয়ন লাভ ও নির্বাচিত হওয়ার জন্যে প্রার্থীর যেসব যোগ্যতা নির্ধারন করা হয়েছে তা এইরূপ: তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, পঁচিশ বছর বয়সী হতে হবে ও কর্পোরেশনের যে কোনো ওয়ার্ডের নির্বাচক তালিকায় তার নাম থাকতে হবে৷

 
মেয়র ও কমিশনারদের আপসারণ:
সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কমিশনারগণ নির্দিষ্ট কারণে অপসারণযোগ্য৷ কারণগুলো হলো: পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকা, কর্পোরেশন ও রাষ্ট্রের জন্যে ক্ষতিকর কার্যকলাপে জড়িত থাকা, দুর্নীতি ও অসদাচারণজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া, তার কৃত্য বা কর্তব্যকর্ম পালনে অস্বীকার করা বা অসমর্থ হওয়া, অসদাচারণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং কর্পোরেশনের অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি বা অপপ্রয়োগ করা৷

 
কর্পোরেশনের রেকর্ডপত্র দেখার অধিকার:
নিয়মাবলী সাপেক্ষে মেয়র ও কমিশনারদের কর্পোরেশনের সকল রেকর্ডপত্র দেখার অধিকার রয়েছে৷
 

সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী:
সিটি কর্পোরেশনের একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা থাকবেন যিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন৷ তিনি হলেন কর্পোরেশনের প্রধান কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা তার অধস্তন থাকবেন৷ কর্পোরেশনের মেয়র তার নির্বাহী ক্ষমতার মধ্যে নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োগ করতে দিবেন তিনি একমাত্র সেইগুলোই প্রয়োগ করবেন এবং তিনি মেয়রের নিকট দায়ী থাকবেন৷ কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনার কারণে কর্পোরেশনের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি কিংবা মানবজীবনের জন্যে বিপদ ঘটার সম্ভাবনা থাকলে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার যেকোনো ধরনের আশু ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে ৷

 
সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ক্ষমতা ও কার্যাবলী:
কর্পোরেশনের কর্তব্যসমুহ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্যে যা যা করার দরকার তা সবই মেয়র নিজে কিংবা কর্পোরেশনের কর্মকর্তা - কর্মচারীদের মাধ্যমে করবেন ৷ সমগ্র সিটিকে কয়েকটি অঞ্চলে বিভক্ত করে প্রত্যেক আঞ্চলিক কার্যালয় দ্বারা, বিধিমোতাবেক, কর্পোরেশনের কর্তব্যসমূহ পালন করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে মেয়রের সম্পুর্ণ তত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকবে৷

কর্পোরেশনের একাধিক স্থায়ী কমিটি গঠন করা যাবে৷ যে সব বিষয় সম্পর্কে স্থায়ী কমিটি গঠন করা যাবে সেগুলো হলো: অর্থ ও সংস্থাপন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, নর্দমা ও পয়নিস্কাশন ব্যবস্থা, শহর পরিকল্পণা, শহর উন্নয়ন, হিসাব নিরীক্ষণ, হিসাব বিবরণী, পূর্তকাজ, ইমারত, পানি, বিদ্যুত, সমাজকল্যান, সমাজকেন্দ্র ও অন্যান্য৷ এই কমিটিগুলো কিভাবে গঠিত হবে, কি কি কাজ করবে তা কর্পোরেশনের বিধিমালা দ্বারা নির্ধারণ করা হয়৷
 

সিটি কর্পোরেশনের তহবিল ও বাজেট:
সিটি কর্পোরেশনের একটি তহবিল থাকবে যার মধ্যে জমা হবে কর্পোরেশনের সকল প্রকার আয়৷ এই তহবিলের অর্থ বিভিন্ন নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করা হবে৷ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি বছর একটি বাজেট থাকবে৷ সেখানে আয় ব্যয়, প্রাপ্তি বরাদ্দ ইত্যাদিও প্রাক্কলিত বিররণ থাকবে৷ কর্পোরেশনের বাজেট অনুযায়ী এই আয় ব্যয়ের যথাযথ হিসাব বিবরণী সংরক্ষণ করা হয়৷ এই হিসাব বিবরনী আবার মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃক নিরীক্ষিত হয়৷
 

কর্পোরেশনের করারোপণ:
সিটি কর্পোরেশন একটি নির্দিষ্ট আদর্শ কর তফসিল অনুসারে কর, অভিকর, পারানি ও মাশুল নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিরূপণ, আরোপ, ও আদায় করতে পারে৷ এই নিরূপণ ও আদায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপত্তি পেশ করতে পারেন৷

 
সিটি কর্পোরেশনের কার্যাবলী 
১. নগরবাসীর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা:
সিটি কর্পোরেশন এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন করা কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব৷ এতদুদ্দেশ্যে কর্পোরেশন তার এলাকার অস্বাস্থ্যকর ইমারতসমুহ ও ময়লা আবর্জনা অপসারণ এবং পায়খানা ও প্রসাবখানা স্থাপন করবে, জন্ম - মৃত্যু, বিবাহ রেজিষ্ট্রি করবে, সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করবে, সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্তদের চিকিত্‍সার ব্যবস্থা করবে, স্বাস্থ্যকন্দ্র, মাতৃসদন, হাসপাতাল, ডিসপেনসারী স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে, এক কথায় নগরবাসীর সার্বিক জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও চিকিত্‍সা ব্যবস্থা করবে৷

২. নগরবাসীর পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশন:
সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর জন্যে পর্যাপ্ত পরিমানে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করবে এবং এর জন্যে অর্থ আদায় করবে বা করতে পারে৷ নগরবাসীর ময়লা পানির নিষ্কাশনের জন্যে কর্পোরেশন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করবে, যেমন নর্দমা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে, স্নান ও ধৌত করার স্থান নির্দিষ্ট করে দিবে, ধোপী ঘাটের ব্যবস্থা করবে, সরকারি জলাধার ঘোষণা করবে, জলাধারে খেয়া পারাপারের জন্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, জলাধারকে সরকারি মত্‍সক্ষেত্র বলে ঘোষণা দিতে পারে এবং আরো অন্যন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে৷

৩. খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যাদি:
কর্পোরেশন থেকে লাইসেন্স নিয়ে যে কেউ যে কোনো নির্দিষ্ট খাদ্য বা পানীয় দ্রব্যাদি প্রস্তুতি ও বিক্রয় করতে পারে৷ এ সব দ্রব্যাদির ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে কর্পোরেশনের বাজার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে এবং বেসরকারি বাজার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্যে লাইসেন্স দিতে পারে৷ জনস্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে নির্দিষ্ট স্থানে কসাইখানার ব্যবস্থা করবে৷

৪. পশুপালন ও পশু প্রদর্শনী:
সিটি কর্পোরেশন পশুপালনের জন্যে পশু হাসপাতাল ও ডিসপেনসারী প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করবে, বেওয়ারিশ পশুকে আটক করা ও খোয়াড়ে আবদ্ধ রাখার ব্যবস্থা করবে, পশুশালা ও বিভিন্ন খামার স্থাপন ও রক্ষণবেক্ষণ করবে, জনসাধারণের জন্যে বিপদজনক পশুকে আটক ও ধ্বংস করার ব্যবস্থা করবে৷ গবাদি পশু প্রদর্শনী ও খেলা অনুষ্ঠানের জন্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷ চিড়িয়াখানা স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে, পশুর মৃতদেহ অপসারণ করবে৷

৫. কর্পোরেশন এলাকায় শহর পরিকল্পনা:
কর্পোরেশন নগরীতে ইমারত নির্মান, পূনর্নির্মান, জমির উন্নয়ন, এলাকার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, জরিপ অনুষ্ঠান ইত্যাদি জনকল্যাণমূলক কাজের বিধান সম্বলিত একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার জন্যে যা যা করা প্রয়োজন তা সবই করবে৷

৬. নগরীতে ইমারত নিয়ন্ত্রণ:
কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে কোনো ইমারত বাসিন্দাদের জন্যে বিপদজনক বলে প্রতীয়মান হলে তা অপসারণের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷

৭. কর্পোরেশন এলাকার রাস্তাঘাট:
সিটি কর্পোরেশন নগরীর অধিবাসীদের জন্যে প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করব্, রাস্তায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করবে, এবং কর্পোরেশনের রাস্তা, নর্দমা, জমি, বাড়ি, গলি বা পার্কের উপর অবৈধভাবে স্থাবর অস্থাবর সীমানা লঙ্ঘনমূলক পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা অপসারণ করবে৷

৮. জননিরাপত্তা বিধান:
কর্পোরেশন নগরীতে অগ্নিনিরোধ ও অগ্নিনির্বাপনের জন্যে দমকল বাহিনী গঠন করতে পারে, বেসামরিক প্রতিরক্ষামূলক কর্তব্যকর্ম সমপন্ন করবে, বন্যা প্রতিরোধ করবে, দুর্ভিক্ষ কবলিত এলাকায় ত্রাণের ব্যবস্থা করবে, বিপদজনক ও ক্ষতিকর বস্তুর ব্যবস্থা বাণিজ্য নিষিদ্ধ করবে, গোরস্থান ও শ্মশান স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে৷

৯. নগরীতে গাছ, পার্ক, উদ্যান ও বন সংক্রান্ত ব্যবস্থা:
কর্পোরেশন নগরীতে বৃক্ষরোপন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ করবে, উদ্যান নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে, খোলা জায়গার ব্যবস্থা করবে, বন সৃষ্টির জন্যে ও উন্নয়নের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবে৷ পুকুর খনন ও পূনঃখননের ব্যবস্থা নিবে৷

১০. নগরীর শিক্ষা ব্যবস্থা:
কর্পোরেশন নগরীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন করবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মান সম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করবে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ সাহায্য প্রদান করবে, বাধ্যতামূলক শিক্ষা প্রবর্তন করবে৷

১১. নগরীতে সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা:
কর্পোরেশন নগরীতে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের জন্যে তথ্য কেন্দ্র স্থাপন করবে, রেডিও সেটের ব্যবস্থা করবে ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে, যাদুঘর ও আর্ট গ্যালারি স্থাপন ও তাতে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করবে, পাবলিক হল ও সমাজকেন্দ্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে, জাতীয় দিবসগুলোর উদযাপনের ব্যবস্থা করবে, খেলাধুলায় উত্‍সাহ যোগাবে, পাঠাগারসমূহ প্রতিষ্ঠা করবে, মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করবে৷

১২. কর্পোরেশনের জনকল্যানমূলক কাজ:
সিটি কর্পোরেশন দুঃস্থদের জন্যে জনকল্যাণ কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, এতিমখানা ইত্যাদি স্থাপন করবে, মৃত নিঃস্ব ব্যক্তিদের মৃতদেহ দাফন বা দাহের ব্যবস্থা করবে৷ ভিক্ষাবৃত্তি, পতিতাবৃত্তি, জুয়া ইত্যাদি প্রতিরোধের ব্যবস্থা করবে৷

১৩. কর্পোরেশনের উন্নয়নমুলক কাজ:
সিটি কর্পোরেশন নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে, সমাজ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করবে, ব্যবসা ও বাণিজ্যে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে৷
 

 
সিটি কর্পোরেশন সংক্রান্ত আইন সমূহ:The Dhaka City Corporation Ordinance, 1983
The Chittagong City Corporation Ordinance, 1982
The Khulna City Corporation Ordinance, 1984 

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন আইন, ১৯৮৭
সিলেট সিটি কর্পোরেশন আইন, ২০০১
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন আইন, ২০০১ 

সিটি কর্পোরেশনসমূহের নির্বাচন ও করারোপণ ব্যতীত অন্যন্য বিষয় সংক্রান্ত অধঃস্থিত আইনসমুহ:

সীমানা পরিবর্তন সংক্রান্ত:
১. ঢাকা সিটি সীমানা পরিবর্তন বিধিমালা, ১৯৯৭
২. চট্টগ্রাম সিটি সীমানা পরিবর্তন বিধিমালা, ১৯৯৭
৩. খুলনা সিটি সীমানা পরিবর্তন বিধিমালা, ১৯৯৭
৪. রাজশাহী সিটি সীমানা পরিবর্তন বিধিমালা, ১৯৯৭

কর্পোরেশনকে জোনে বিভক্তকরণ সংক্রান্ত:
১. ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে ১০টি জোনে বিভক্তকরণ

মেয়র-কমিশনারদের পদত্যাগ ও অপসারণ সংক্রান্ত:
১. ঢাকা (সিটি) কর্পোরেশন মেয়র, ডেপুটি মেয়র এবং কমিশনার (পদত্যাগ ও অপসারণ) বিধিমালা, ১৯৯০
২. চট্টগ্রাম (সিটি) কর্পোরেশন মেয়র, ডেপুটি মেয়র এবং কমিশনার (পদত্যাগ ও অপসারণ) বিধিমালা, ১৯৯০
৩. খুলনা (সিটি) কর্পোরেশন মেয়র, ডেপুটি মেয়র এবং কমিশনার (পদত্যাগ ও অপসারণ) বিধিমালা, ১৯৯০
৪. রাজশাহী (সিটি) কর্পোরেশন মেয়র, ডেপুটি মেয়র এবং কমিশনার (পদত্যাগ ও অপসারণ) বিধিমালা, ১৯৯০

সিটি কর্পোরেশনের চাকরি সংক্রান্ত:
১. পৌর কর্পোরেশন কর্মচারী (ভবিষ্য তহবিল এবং আনুতোষিক) বিধিমালা, ১৯৮৮
২. নিবন্ধন পরিদপ্তর (স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর আদায়কারী কর্মচারীদেও ভবিষ্য তহবিল ও আনুতোষিক) বিধিমালা, ১৯৯২
৩. রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরি বিধিমালা, ১৯৯৮
৪.
 The Local Councils Service Rules, 1968 
৫. 
The Local Council Servants (Efficiency and Discipline) Rules, 1968 
৬.
 The Local Council Servants (Leave) Rules, 1968
৭.
 The Municipal Committees Servants (Conduct) Rules, 1969
৮. 
The Local Council Servants (Recreation Allowance) Rules, 1965 
৯. 
The Municipal Committees (Traveling Allowance) Rules, 1966 
১০. 
The Local Councils and Municipal Committees Servants (Retirement) Rules, 1968

সিটি কর্পোরেশনের সাথে চুক্তি সম্পাদন সংক্রান্ত:
১. 
The Conciliation of Disputes (Municipal Areas) Ordinance, 1979
২. 
The Conciliation of Disputes (Municipal Areas) Rules, 1980
৩. খুলনা সিটি কর্পোরেশন (চুক্তি) বিধিমালা, ১৯৮৭

সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিরোধ মীমাংসা সংক্রান্ত:

১. 
The Conciliation of Disputes (Municipal Areas) Ordinance, 1979
২. 
The Conciliation of Disputes (Municipal Areas) Rules, 1980 

সিটি কর্পোরেশনের কার্য, সম্পত্তি, বাজেট ও তহবিল সংক্রান্ত:

১. 
The Municipal Committee Business Rules, 1963 
২. 
The Municipal Committee (Property) Rules, 1960
৩. 
The Government and Local Authority Lands and Buildings (Recovery of Possession) Ordinance, 1970
৪. 
The Dhaka Municipal Corporation (Preparation and sanction of Budget) Rules, 1974 
৫. 
The Municipal Fund (Custody and Investment) Rules, 1960
৬. 
The Local Authorities Loans Act, 1914
৭. 
The Local Authorities Loans Rules, 1915

সিটি কর্পোরেশনের শহর পরিকল্পনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা, পরিদর্শন এবং বিপদজনক ও অশোভন বানিজ্য ও পণ্য সংক্রান্ত:
১. 
The Municipal Committee (Town Planning) Rules, 1968
২. 
The Local Councils (Development Plans) Rules, 1960
৩. 
The Municipal Committees (Inspenction) Rules, 1962
৪. 
The Municipal Committees (Specification of Dangerous and Offensive Trades and Articles) Rules, 1963

বিবিধ আইনমালা:
১. ঢাকা সিটি কর্পোরেশন পাবলিক মার্কেট উপ-আইনমালা, ২০০৩
২. গণখাতে বেসামরিক ক্রয় ও সংগ্রহ পদ্ধতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন
৩. 
The Public Procurement Regulations, 2003